সিরিয়া থেকে বাশার আল-আসাদ বিদায়: এক নতুন অধ্যায়ের শুরু
আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০২৪
সিরিয়ার মানুষের কাছে বাশার আল-আসাদ এখন একজন পতিত শাসক। তার শাসনের প্রতীক হিসেবে গর্ব করে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল মূর্তিগুলো, যা শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হলো।
মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হামার কেন্দ্রস্থলে বাশারের বাবা হাফিজ আল-আসাদের বিশাল মূর্তি বিদ্রোহীরা ধ্বংস করেছে। মূর্তির মাথাটি ছিঁড়ে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে শহরময় প্রদর্শন করা হয়। এটি যেন ইতিহাসের সেই চক্রের আরেকটি উদাহরণ, যেখানে পতিত শাসকদের প্রতীক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বারবার দেখা যায়।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
এই চিত্র আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে হিটলারের মূর্তি, রোমানিয়ার নিকোলাই চশেস্কু বা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর স্তালিন-লেনিনের মূর্তি ধ্বংসের কথা। আধুনিক যুগেও ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার গাদ্দাফি, কিংবা জিম্বাবুয়ের মুগাবের মূর্তিগুলোর একই পরিণতি হয়েছে।
কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো ব্যতিক্রম। তিনি জীবদ্দশায়ই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার কোনো মূর্তি স্থাপন করা হবে না। কিন্তু সিরিয়ায় বাশারের শাসন ঠিক তার বিপরীত।
বিদ্রোহ ও ক্ষমতার পতন
সিরিয়ায় সাম্প্রতিক বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), যাদের নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সংগঠন বিদ্রোহীদের স্থানীয় সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে একের পর এক শহর দখল করেছে।
বিদ্রোহীদের এই দ্রুত অগ্রগতি রাশিয়া ও ইরানের ভূরাজনৈতিক ব্যস্ততার সুযোগে ঘটেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত রাশিয়া এবং ইসরায়েলকে সামাল দিতে ব্যস্ত ইরান কার্যত আসাদকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলাফল: রাজধানী দামেস্কে বিদ্রোহীদের প্রবেশ এবং বাশারের অজানা গন্তব্যে পালানো।
নতুন দিগন্তের প্রতিশ্রুতি
এইচটিএস নেতা আল-জোলানি ঘোষণা দিয়েছেন, প্রতিশোধ নয়, বরং সংহতি ও স্থিতিশীলতা তাদের লক্ষ্য। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ গাজি আল-জালালির তত্ত্বাবধানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হবে।
জোলানি আরও বলেছেন, সিরিয়ার শরণার্থীরা, তারা যেকোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের হোক না কেন, দেশে ফিরে আসতে পারবে। বিদ্রোহীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নতুন সিরিয়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রভাব
সিরিয়ার এই পরিবর্তন ইরানের জন্য বড় ধাক্কা। তারা লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে স্থলপথে সংযোগ হারাবে। তুরস্ক আশাবাদী যে, সিরীয় শরণার্থীরা ফিরে যাবে, যদিও কুর্দি বিদ্রোহীদের শক্তি বাড়ার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল এবং পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ার এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাবে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
সিরিয়ায় আসাদের পতন কেবল একটি দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলানোর ঘটনা নয়, এটি হয়তো পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন আলোড়ন তুলবে। এমনকি, এটি আরব বসন্তের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
শাসনব্যবস্থার এ পরিবর্তন সিরিয়ার জনগণের জন্য একটি নতুন আশা এবং সমগ্র অঞ্চলে স্থিতিশীলতার বার্তা বয়ে আনতে পারে।
.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ